চাঁদা তুলে কাউকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর কাজে যুক্ত হওয়া কোন মহৎ কাজ বলে কেন মনে করিনা?

“মহত্ব” ধারণাটা মানুষের নির্মাণ। সে নিজে অন্যরে দিয়া যা করাইয়া নিতে চায়, তারে সে মহত্ব কইয়া গ্লোরিফাই কইর‍্যা থাকে। এতে তার মতলব হাসিল সহজ হয়। মতলব আমি খারাপ অর্থে কই নাই। তবে কিছু ক্ষেত্রে কাম করাইয়্যা নেয়ার বদ মতলবও হইতে পারে। হিটলার বিশুদ্ধ আর্য রক্তের জার্মান জাতি তৈরি করতে চাইছিল, এইডা তার মহৎ ইচ্ছা কইয়া জার্মান জাতিরই না, সারা দুইন্যার মাইনষের পুংগা মারছিল।

এখন আমরা মহত্ব আরোপ করি খয়রাত করনের সামর্থ্যরে। কেউ বিদেশে চিকিৎসা করাইয়া তার খায়েশ পুরণ করবো, তাই তারে খয়রাত কইর‍্যা বিদেশে পাঠাইতে পারলে আমি মহত্বের পদক পাইয়া যামু। খালি আপনারে বিকাশ কইর‍্যা একটা নাম্বারে কিছু টাকা পাঠাইতে হইব। ব্যাস আপনি হইয়া গেলেন মহৎ।

এই মহত্ব আবার প্রায় ঐশ্বরিক, কারণ খয়রাত যোগানির মানুষগুলা আপনারে কইয়া দিতাছে আপনি একজনের জান বাচাইলেন। তো আপনি ঈশ্বরের কাছাকাছি মহৎ হইয়া গেলেন, কারণ আপনি কারো জান বাচাইতে পারেন। আপনি ভুইল্যা গেলেন, আপনি আসলে অন্যের জান বাচানি তো দূর কি বাত, আপনি নিজের জানটাও বাচাইতে পারেন না। ভাবটা এমন যে কারো জান বাচানির ক্ষমতা আপনার উপরে অর্পিত হইছে!! আর সেই দায়িত্ব অর্পন করার তালুকদারি নিছেন খয়রাত যোগানির মানুষ গুলা।

এই মহত্বের নির্মাণে প্রথম শহীদ হয় মানুষ হিসেবে আপনার সীমানার জাজমেন্ট আর দ্বিতীয় শহীদ হয় আমাগো রাষ্ট্র। কারণ আপনি প্রমাণ করলেন, আপনি যেই রাস্ট্রের নাগরিক সেই রাষ্ট্র এতই অপদার্থ যে কেউ যদি খয়রাত নিয়াও নিজের চিকিৎসা করাইতে চায় সেও এই রাষ্ট্ররে পুছেনা। সে বুক ফুলাইয়া এই ঘোষণাই দিতাছে যে, এই রাষ্ট্র যেই চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রাখছে তা এক্কেরে যাতা। দরিদ্রের দরিদ্ররে (কাউরে যদি খয়রাত নিয়া চিকিৎসা করাইতে হয় তারে তো দরিদ্রের দরিদ্রই কইতে হয়) চিকিৎসা দেয়ার সামর্থ্য এই রাষ্ট্রের নাই, সেই দরিদ্রের দরিদ্র সেইডার পরোয়াও করেনা।

তৃতীয় বিষয় হইতেছে খয়রাতি সিস্টেম চালু রাইখ্যা আমরা মুল সমস্যারে আড়াল কইর‍্যা ফালাই। সিস্টেমরে আরো নতুন কইর‍্যা সাজাইয়া সেইডারে আরো ইফেক্টভ কইর‍্যা তোলার বদলে আমরা ছ্যাপ দিয়া আঠার কাজ কইর‍্যা আত্মতৃপ্তিতে ভুগি। আর ভাব দেখাই ম্যালা কাম কইর‍্যা ফালাইছি।

তাইলে আপনার পুরা কামটা মহৎ হইলো কেমনে। যা সমাজ আপনারে নায্য ভাইব্যা দিত তার বদলে সমাজের পকেট চিপ্যা তার দশ বিশগুন টেকা বাইর কইর‍্যা নেয়ার কেরামতি যদি মহৎ কাম হয় তাইলে কওয়ার কিছু নাই।
সমাজের পকেট চিপ্যা টেকাটুকা বাইর করার চাইতে রাষ্ট্ররে আরো অধিক দায়িত্বপালনের উপযোগী কইর‍্যা তোলাটা জরুরী কাম, আর এতে ১ জন না ১৬ কোটি মানুষের উপকার।

Share

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter