Sheikh Mujib-raised Rakkhi Bahinee introduced the culture of extrajudicial killing in Bangladesh

There are many discourses from different political parties on who initiated the culture of extrajudicial killing in Bangladesh. According to Awami League, since RAB is identified as the main accused for most extrajudicial killings and the force was set up during the regime of Khaleda Zia, her party is responsible for the introduction of the practice of extrajudicial killing in the country.

But it is the history from which we know that Sheikh Mujib spoke of extrajudicial killing a few months after independence and this was published in national dailies then.

On June 22, 1972, in a rally of around 7 lakh people at Shaheed Bhulu Stadium, Noakhali, Sheikh Mujib, who was the PM then, announced: “If the antisocials do not refrain from heinous activities they will be shot dead.” The next day this statement was published in “Doinik Poorbodesh”.

This announcement from Sheikh Mujib carried a bad omen and then we saw the extrajudicial killing of thousands of people by the Rakkhi Bahinee militia which was under his control.

The militia of Rakkhi Bahinee was set up to protect the fascist regime and the ruling party from the political opponents in a non-political and undemocratic manner.

In the post-independence history of 50 years of Bangladesh Rakkhi Bahinee happens to be the most hated state force. With popular support, several political groups sprang up in protest against Sheikh Mujib’s undemocratic style of running the state. Rakkhi Bahinee was assigned to target and finish off those groups. It killed thousands of people, apart from torturing hundreds of thousands of others.

In newly born Bangladesh Rakkhi Bahinee was used as a special political force and it unleashed a reign of terror across the country. It resorted to unprecedented scale of torture that included forced disappearance and murder. In 1975, after Rakkhi Bahinee was disbanded, a mass grave was discovered at Kaliganj of Jhenaidah. Sixty skeletons were found in that grave. It was believed, they were the remains of people who were massacred by Rakkhi Bahinee. In Kaliganj, the Bahinee forced the residents from 20 or 25 villages to lie down on the ground and they marched on them. Villagers used to be punished this way for their sympathy towards the Naxalites.

Members of Rakkhi Bahinee could enter anyone’s house and arrest anyone they wanted. The force set up camps across rural areas of the country and pick up and detain people, including women and children, the way they liked. However, because of their violent and ruthless activities, people began hating them and they became isolated.

The members of Rakkhi Bahinee were given an unprecedented indemnity against prosecution. No case could be filed against them for anything, including crime as serious as killing.

During interrogation in the court Rakkhi Bahinee officers admitted that they did not follow any code of conduct. Their activities were not documented. Records of not even arrests or raids were preserved. On being asked how his force worked, Hafizuddin, one senior deputy leader told a court in an arrogant style: “We operate the way we think is good for us.” The Raakhi Bahinee leader also told that there was no register for arms and ammunitions.

Rakkhi Bahinee used to view itself as an invincible power. During operations to recover illegal arms they used to set up camps wherever they liked. They used to pick up suspects and brought them to the camps. To extract confessions, they tortured people in many ways. In the name of confiscating properties, they robbed people and never prepared any seizure list. They entered people’s houses and looted money, jewellery, clocks, transistors and other valuables. People were too scared to protest or complain. It was also reported that they extorted money from shops in markets. They used to take away ducks and chickens from people’s houses. If anyone raised a voice of protest, he was shot dead and his body was dumped in the river.

All dissenters or those who opposed the government were identified as ‘anti-national’. Many such anti-nationals were killed by Rakkhi Bahinee. Very unfortunately, Rakkhi Bahinee became known as fascist force groomed by the government.

Click here to read the original Facebook post

স্বাধীন বাংলাদেশে বিনা বিচারে হত্যার সংস্কৃতি কে চালু করেছে তা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে নানা বয়ান চালু আছে। আওয়ামী লীগ বলার চেষ্টা করে বিনা বিচারে হত্যার জন্য মূল অভিযুক্ত বাহিনী র্যা ব যেহেতু খালেদা জিয়ার আমলে তৈরি তাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড শুরুর দায় খালেদা জিয়ার।

ইতিহাস বলে, বিনা বিচারে হত্যার ইঙ্গিত শেখ মুজিবই প্রকাশ্যে দেন এবং তা জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রচার করাও হয় স্বাধীনতার মাত্র কয়েকমাস পরেই।

১৯৭২ সালের ২২ জুন নোয়াখালীতে শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম প্রায় ৭ লাখ লোকের এক সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, “সমাজবিরোধীরা যদি তাদের ঘৃণ্য কার্যকলাপ থেকে বিরত না হয় তাহলে তাদের গুলি করে হত্যা করা হবে”। ১৯৭২ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এর প্রতিবেদনে শেখ মুজিবের সেই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

এই ঘোষণা ছিলো শেখ মুজিবের অধীনস্ত মিলিশিয়া রক্ষী বাহিনীর হাতে হাজার হাজার মানূষকে বিনা বিচারে হত্যার পূর্বাভাষ।

রক্ষীবাহিনী ছিল ফ্যাসিবাদী সরকার ও শাসকগোষ্ঠীকে তাদের জনপ্রিয় গণভিত্তিসম্পন্ন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের হাত থেকে অরাজনৈতিকভাবে, অগণতান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সুরক্ষা দেয়া, ‘নিরাপদ করে তোলা।

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে যাত্রা শুরুর পরবর্তী অন্তত অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচাইতে গণধিকৃত রাষ্ট্রীয় বাহিনী হলো এই রক্ষীবাহিনী। মুজিব সরকারের অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার বিরুদ্ধে ক্রমাগত জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠা প্রতিবাদী ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীসমূহকে নির্মূল করাই ছিল এই বিশেষ বাহিনীর মূল লক্ষ্য ও দায়িত্ব। অগণিত মানুষকে অবর্ণনীয় নির্যাতন আর হাজার হাজার মানুষ হত্যার দায় রয়েছে এদের। বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী হায়দার আকবর খান রনো রক্ষীবাহিনীর হাতে দশ হাজারের বেশি কমিউনিস্ট, বামপন্থী কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

রক্ষীবাহিনী সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে এক বিশেষ রাজনৈতিক বাহিনী হিসেবে অবর্ণনীয় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা বিচারবহিৰ্ভূত হত্যা, গুম, গ্রেপ্তার, নির্যাতনের এমন সব রেকর্ড তৈরি করে যা আগের সমস্ত নজিরকে ছাড়িয়ে যায়। ১৯৭৫-এ রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত করার পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রক্ষীবাহিনীর একটি ক্যাম্প উঠে গেলে সেখানে গণকবর আবিষ্কার হয়। সেখানে ৬০টি নরকঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। অনুমান করা যায়, এই হতভাগ্যরা রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। কালীগঞ্জে ২০-২৫ গ্রামের মানুষকে একত্রিত করে শুয়ে পড়তে অর্ডার দেয়া হতো। তারপর সে সব মানুষের ওপর দিয়ে মার্চ করে যেত রক্ষীবাহিনীর সৈনিকরা। নকশালদের প্রতি সহানুভূতি থাকার দায়ে এ শাস্তি দেয়া হতো গ্রামবাসীদের।

রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা যে কোনো বাড়িতে প্রবেশ করতে পারতো, যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারতো। দেশের গোটা গ্রামাঞ্চলে শিবির স্থাপন করে তারা নারী-শিশু নির্বিশেষে যে কাউকে আটক রাখতে পারতো। প্রতিটি অপারেশনের পর তারা জনগণ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকে। জনগণের মধ্যে রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে ভীতি ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং জনমনে ক্রমশ ঘৃণাবোধ সঞ্চারিত হয়।

উপরন্তু রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের নজীরবিহীন ‘ইনডেমনিটি বা ‘দায়মুক্তি দেয়া হয়েছিল। যার অর্থ- সদস্যরা তাদের যেকোনো কাজ সরল বিশ্বাসে করেছেন বলে গণ্য করা হতো এবং এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের, অভিযোগ পেশ কিংবা আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়া যেতো না। বাংলাদেশে জারি করা হত্যার দায়মুক্তির ঘটনা এটাই প্রথম।

আদালতের কাছে প্রশ্নোত্তর পর্যায়ে রক্ষীবাহিনীর অফিসাররা স্বীকার করেছেন যে, তাদের কোনো কার্যবিধি কিংবা আচরণবিধি ছিল না। নিজেদের কাজকর্মের কোনো বিবরণী কিংবা কাগজপত্র বা দলিল তারা সংরক্ষণ করতেন না। কোনো গ্রেপ্তার কিংবা তল্লাশির রেকর্ডও তারা রাখতেন না। তাহলে তারা কীভাবে কাজ করছেন- আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে রক্ষীবাহিনীর একজন সিনিয়র ডেপুটি লিডার হাফিজ উদ্দিন উদ্ধতভাবে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমরা যেভাবে কাজ করা ভালো মনে করি সেভাবেই করি’। প্রশ্নোত্তর পর্যায়ে হাফিজ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, অস্ত্রশস্ত্র বা গোলাবারুদের হিসাবের জন্য কোনো রেজিস্টারও তাদের ছিল না।

নিজেদের এরা ‘অপরাজেয় শক্তি মনে করতো রক্ষীবাহিনী। বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান পরিচালনাকালে তারা যেখানে খুশি সেখানে শিবির স্থাপন করতো। সন্দেহভাজন লোকদের ধরে শিবিরে নিয়ে আসতো। স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য যেকোনো রকম নির্যাতনের পন্থা অবলম্বন করতো। কোনো রসিদ না দিয়ে তল্লাশিকালে তারা জনগণের সম্পত্তি জব্দ করার নামে হরণ করতো। ঘরে ঘরে ঢুকে লুট করতো টাকাপয়সা, সোনাদানা, ঘড়ি, ট্রানজিস্টার বা রেডিওসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। প্রাণের ভয়ে কেউ তাদের আচরণের প্রতিবাদ করার সাহস পেতো না। এমন খবরও পাওয়া যায় যে, বাজারে গিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে তারা জোর করে টাকা আদায় করতো। গৃহস্থের ঘরে গিয়ে তুলে নিয়ে আসতো হাঁস-মুরগি। কোনো লোক তাদের কাজকর্মের বিরোধিতা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করে তার লাশ নদীতে নিক্ষেপ করতো।

সরকারের বিরোধী যে কাউকে তারা ‘দেশবিরোধী বলে সাব্যস্ত করতো এবং এভাবে অসংখ্য লোককে হত্যা করেছে রক্ষীবাহিনী। ফলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের একটি ‘ফ্যাসিস্ট বাহিনী’ হিসেবেই ‘রক্ষীবাহিনী তার পরিচিতি অর্জন করে।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন


Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to